Header Ads

জাফলং ভ্রমণ গাইড : প্রকৃতি ও পাথরের মায়াবী হাতছানি।

ছবি: জাফলং
ছবি: জাফলং

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবস্থিত জাফলং বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় এবং সুন্দর পর্যটন কেন্দ্র। ভারতের মেঘালয় পাহাড় থেকে নেমে আসা পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ পানি, পাথুরে নদীপথ আর পাহাড়ের ওপর ঝুলন্ত ডাউকি ব্রিজ জাফলং-কে করে তুলেছে অনন্য। একে বলা হয় প্রকৃতির এক মায়াবী রূপ।


 জাফলং আসা-যাওয়া: পথ ও ভাড়া:

জাফলং সিলেট শহর থেকে প্রায় ৬২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

সিলেট শহর থেকে বাস: শহরের কদমতলী বা সোবহানীঘাট থেকে সরাসরি জাফলং যাওয়ার বাস পাওয়া যায়।

ভাড়া: ৮০-১০০ টাকা। সময় লাগবে ১.৫ থেকে ২ ঘণ্টা।

সিএনজি বা লেগুনা: যদি গ্রুপে যাতায়াত করেন, তবে সিএনজি বা লেগুনা রিজার্ভ করে যাওয়া সবচেয়ে আরামদায়ক।

সিএনজি ভাড়া: ১৫০০-২০০০ টাকা (আসা-যাওয়া)।

লেগুনা ভাড়া: ৩০০০-৪০০০ টাকা (আসা-যাওয়া)।

মাইক্রোবাস: বড় ফ্যামিলি ট্যুর হলে মাইক্রোবাস ৫০০০-৬০০০ টাকায় রিজার্ভ পাওয়া যায়।


 সেখানে দেখার মতো আকর্ষণসমূহ:

জাফলং-এ আপনি যা যা উপভোগ করবেন:

পাহাড় ও ঝরনা: ওপারেই ভারতের মেঘালয় পাহাড় এবং পাহাড় থেকে গড়িয়ে পড়া অসংখ্য ছোট-বড় ঝরনা দূর থেকে দেখা যায়।

ছবি: জাফলং
ছবি: জাফলং

ডাউকি ব্রিজ: পিয়াইন নদীর ওপর ব্রিটিশ আমলের তৈরি ডাউকি ব্রিজটি পর্যটকদের মূল আকর্ষণ। এর নিচে পাথর আর স্বচ্ছ পানির খেলা দেখার মতো।

পাথর সংগ্রহ: নদীতে শত শত শ্রমিক নৌকা নিয়ে পাথর সংগ্রহ করেন, যা জাফলং-এর একটি চিরচেনা দৃশ্য।

খাসিয়া পল্লী ও চা বাগান: জাফলং-এর পাশেই রয়েছে খাসিয়া আদিবাসীদের গ্রাম এবং সুপারি ও পানের বাগান। এছাড়া যাওয়ার পথে পড়বে চমৎকার তামাবিল জিরো পয়েন্ট।


 খাওয়া-দাওয়া ও খরচ:

জাফলং-এ খাওয়ার জন্য অনেক সাধারণ মানের হোটেল আছে।

কী খাবেন: স্থানীয় হাঁসের মাংস এবং পিয়াইন নদীর ছোট মাছ খেতে ভুলবেন না।

খাবার খরচ: জনপ্রতি ২০০-৩০০ টাকার মধ্যে খুব ভালো লাঞ্চ সম্ভব। জাফলং বাজারের হোটেলগুলোই প্রধান ভরসা।

টিপস: পর্যটন এলাকায় খাবারের দাম অনেক সময় বেশি চায়, তাই আগে থেকে দামাদামি করে নিন।


 কোন জায়গায় কী গাড়ি নিয়ে যাবেন ও ভাড়া:

সিলেট থেকে জাফলং: বাস বা সিএনজি।
নৌকা ভ্রমণ: নদীর ওপারে জিরো পয়েন্ট বা পাহাড়ের একদম কাছে যেতে নৌকা ভাড়া করতে হয়।

নৌকা ভাড়া: ৫০০-৮০০ টাকা (পুরো নৌকা রিজার্ভ)। নৌকায় ৫-৮ জন বসা যায়।

খাসিয়া পল্লী ভ্রমণ: জাফলং এর ভেতরেই ছোট অটোরিকশা বা হেঁটেও ঘুরে দেখা যায়।


 ভ্রমণের সেরা সময় ও টিপস:

সেরা সময়: বর্ষাকালে (জুন-সেপ্টেম্বর) জাফলং এর রূপ সবচেয়ে বেশি খুলে। ঝরনাগুলোতে পানি থাকে এবং পাহাড় একদম সবুজ হয়ে যায়। তবে শীতকালেও স্বচ্ছ পানি দেখার জন্য অনেকে যান। 

সতর্কতা: সীমান্তের কাছাকাছি জিরো পয়েন্টে বিজিবি-র নির্দেশনা মেনে চলুন। অতিরিক্ত আবেগে ইন্ডিয়া বর্ডারে ঢুকে পড়বেন না। 

জুতা: নদীর পাথুরে পথে হাঁটার জন্য স্লিপার বা স্যান্ডেল না পরে ভালো গ্রিপের জুতা পরুন। 

কেনাকাটা: জাফলং-এ ভারতীয় প্রসাধনী বা চকোলেটের দোকান আছে, তবে দাম যাচাই করে কিনবেন।


সিলেটের আরো ব্লগ পড়ুন: শাহজালাল (র.) মাজারবিছনাকান্দি, সাদা পাথর

Blogger দ্বারা পরিচালিত.