Header Ads

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ভ্রমণ গাইড ২০২৬: এক ছাদের নিচে বাংলাদেশের ইতিহাস।

ছবি: বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর
ছবি: বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর
ঢাকার শাহবাগে অবস্থিত বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর এদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিল্পকলা এবং সংস্কৃতির এক বিশাল ভাণ্ডার। ১৯১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই জাদুঘরটি বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সেরা এবং বৃহৎ জাদুঘর হিসেবে পরিচিত। দেশের প্রাচীন ইতিহাস থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ—সবকিছু এক ছাদের নিচে দেখতে চাইলে জাতীয় জাদুঘরের কোনো বিকল্প নেই।


 জাদুঘর আসা-যাওয়া পথ ও ভাড়া:

জাতীয় জাদুঘর ঢাকার কেন্দ্রস্থল শাহবাগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (BSMMU) ঠিক পাশেই অবস্থিত।

যাতায়াত: ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে শাহবাগগামী বাসে উঠে শাহবাগ মোড় নামলেই এটি হাতের কাছে পাওয়া যাবে। মেট্রোরেলে এলে 'শাহবাগ স্টেশনে' নেমে ২ মিনিট হাঁটলেই জাদুঘর।

ভাড়া: বাস ভাড়া দূরত্ব অনুযায়ী ১০-৫০ টাকা। সিএনজি বা পাঠাওতে করেও সহজে আসা যায়।


 কী কী দেখবেন (গ্যালারি পরিচিতি):

জাদুঘরটি চারটি তলায় বিন্যস্ত এবং এতে প্রায় ৪৬টিরও বেশি গ্যালারি রয়েছে:

নিচতলা (প্রাকৃতিক ইতিহাস): এখানে বাংলাদেশের মানচিত্র, গাছপালা, সুন্দরবনের বাঘ, বন্যপ্রাণী এবং খনিজ সম্পদের প্রদর্শনী আছে। বিশেষ করে বিশাল তিমির কঙ্কালটি সবার নজর কাড়ে।

দ্বিতীয় তলা (প্রাচীন ইতিহাস): এখানে মৌর্য, গুপ্ত ও পাল আমলের পোড়ামাটির ফলক, পাথরের মূর্তি, প্রাচীন মুদ্রা এবং অস্ত্রশস্ত্র দেখা যায়।

তৃতীয় তলা (শিল্পকলা ও সংস্কৃতি): বাংলাদেশের লোকজ শিল্প, নকশিকাঁথা, বাদ্যযন্ত্র এবং বিশ্বখ্যাত মসলিন কাপড়ের সংগ্রহ এখানে রয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিখ্যাত চিত্রশিল্পী জয়নুল আবেদিন ও কামরুল হাসানের আঁকা ছবিও এখানে আছে।

ছবি: বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর
ছবি: বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর

চতুর্থ তলা (মুক্তিযুদ্ধ ও সমকাল): এখানে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক দলিল, বঙ্গবন্ধুর ব্যবহৃত জিনিসপত্র এবং মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যবহৃত অস্ত্র সংরক্ষিত আছে।


 সময়সূচী ও টিপস (২০২৬ আপডেট):

জাদুঘরে যাওয়ার আগে সময় জেনে নেওয়া খুব জরুরি:

শনিবার থেকে বুধবার: সকাল ১০:৩০ থেকে বিকাল ৫:৩০ পর্যন্ত।

শুক্রবার: বিকাল ৩:৩০ থেকে রাত ৮:০০ পর্যন্ত।

বন্ধ: বৃহস্পতিবার এবং সরকারি ছুটির দিনে জাদুঘর বন্ধ থাকে।

প্রবেশ ফি: প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ২০-৪০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ১০-২০ টাকা। বিদেশিদের জন্য ফি আলাদা (৫০০ টাকা)। বর্তমানে অনলাইন থেকেও টিকেট কাটা যায়।


 খাওয়া-দাওয়া ও আশেপাশের স্পট:

কী খাবেন: শাহবাগ এলাকায় প্রচুর ভালো খাবারের দোকান আছে। কম খরচে ভালো বিরিয়ানি বা তেহারি খেতে চাইলে 'শাহবাগ মোড়ের' হোটেলগুলোতে যেতে পারেন। এছাড়া জাদুঘরের ঠিক পাশেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় সস্তায় চা-নাস্তা পাওয়া যায়।

আশেপাশের স্পট: জাদুঘর দেখা শেষে আপনি চাইলে পাশেই অবস্থিত চারুকলা অনুষদ, পাবলিক লাইব্রেরি, টিএসসি বা রমনা পার্ক ঘুরে দেখতে পারেন।


 ভ্রমণের কিছু জরুরি টিপস:

ব্যাগ রাখা: জাদুঘরের ভেতরে বড় কোনো ব্যাগ বা ক্যামেরা নিয়ে ঢোকা নিষেধ। কাউন্টারে ব্যাগ জমা দিয়ে টোকেন নিয়ে ভেতরে ঢুকতে হবে। 

ছবি তোলা: গ্যালারির ভেতর ছবি তোলা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। 

ধৈর্য ধরে দেখা: পুরো জাদুঘর ভালোভাবে দেখতে চাইলে কমপক্ষে ৩-৪ ঘণ্টা সময় হাতে নিয়ে যাওয়া উচিত। 

পরিচ্ছন্নতা: এটি আমাদের জাতীয় সম্পদ, তাই ভেতরে কোনো ময়লা ফেলবেন না।

Blogger দ্বারা পরিচালিত.