Header Ads

ভোলা শহর ভ্রমণ গাইড ২০২৬: দ্বীপ জেলার মূল ভূখণ্ডের দর্শনীয় স্থান।

নিজাম-হাসিনা ফাউন্ডেশন মসজিদ
ছবি: নিজাম-হাসিনা ফাউন্ডেশন মসজিদ

ভোলা জেলা মূলত একটি দ্বীপ হলেও ভোলা শহর এবং এর আশেপাশের মূল ভূখণ্ডে দেখার মতো বেশ কিছু চমৎকার জায়গা রয়েছে। যারা যাতায়াত ঝামেলার কারণে মনপুরা বা কুকরি-মুকরি যেতে চান না, তাদের জন্য ভোলা শহরের ভেতরে ও উপকণ্ঠের দর্শনীয় স্থানগুলো নিয়ে এই ব্লগ গাইড।


 ভোলা শহর আসা-যাওয়া পথ ও ভাড়া:

ভোলা যাওয়ার সবচেয়ে রাজকীয় মাধ্যম হলো লঞ্চ।

ঢাকা থেকে: ঢাকার সদরঘাট থেকে প্রতিদিন রাতে ভোলার উদ্দেশ্যে বিশাল সব লাক্সারি লঞ্চ ছেড়ে যায় (যেমন: কর্ণফুলী, গ্রীন লাইন, ভোলা)।

ডেক ভাড়া: ২০০-৩০০ টাকা।

কেবিন (সিঙ্গেল/ডাবল): ১০০০-২৫০০ টাকা।

বরিশাল থেকে: বরিশালের ডিসি ঘাট থেকে স্পিডবোটে মাত্র ৩০-৪০ মিনিটে ভোলার ভেদুরিয়া ঘাটে পৌঁছানো যায়।

স্পিডবোট ভাড়া: ৩০০-৩৫০ টাকা।

শহরের ভেতর যাতায়াত: ভোলা লঞ্চ ঘাট বা খেয়া ঘাট থেকে অটো বা রিকশায় করে মূল শহরে যাওয়া যায়। (ভাড়া: ২০-৪০ টাকা)।


 ভোলা শহরের মূল আকর্ষণসমূহ (চরাঞ্চল বাদে):

নিজাম-হাসিনা ফাউন্ডেশন মসজিদ: এটি ভোলা শহরের সবচেয়ে সুন্দর স্থাপত্য। মার্বেল পাথর আর আধুনিক নকশায় তৈরি এই মসজিদটি দেখতে অনেকটা মধ্যপ্রাচ্যের মসজিদের মতো। এর বিশাল গম্বুজ আর মিনার রাতে আলোকসজ্জায় অপূর্ব দেখায়।

ছবি: নিজাম-হাসিনা ফাউন্ডেশন মসজিদ
ছবি: নিজাম-হাসিনা ফাউন্ডেশন মসজিদ

ভোলা খেয়া ঘাট ও তেঁতুলিয়া নদী: শহরের পাশ দিয়েই বয়ে গেছে তেঁতুলিয়া নদী। বিকেলের সময় খেয়া ঘাটে বসে নদীর বাতাস আর সূর্যাস্ত দেখা খুব প্রশান্তির।

তুলাতলী বাঁধ (Tulartuli): শহর থেকে খুব কাছেই এই বাঁধটি অবস্থিত। মেঘনা নদীর উত্তাল ঢেউ আর নদীর তীরে বিশাল ব্লকগুলো বসে সময় কাটানোর জন্য এটি স্থানীয়দের প্রিয় জায়গা। এখানে ছোটখাটো অনেক ফুড স্টলও আছে।

বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল স্মৃতি জাদুঘর: এটি ভোলার আলীনগর ইউনিয়নে অবস্থিত (শহর থেকে অটোতে যাওয়া যায়)। বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের বীরত্বগাথা এবং মুক্তিযুদ্ধের অনেক স্মৃতি এখানে সংরক্ষিত আছে।

ছবি: বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল স্মৃতি জাদুঘর
ছবি: বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল স্মৃতি জাদুঘর

শিবপুর শান্তিনিবাস: শহরের কাছেই একটি সুন্দর পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে এটি পরিচিতি পাচ্ছে। পরিবার নিয়ে ঘোরার জন্য এটি বেশ পরিচ্ছন্ন জায়গা।


 খাওয়া-দাওয়া ও স্পেশাল আইটেম:

ভোলার খাবারের স্বাদ মুখে লেগে থাকার মতো।

মহিষের দই: ভোলার সবচেয়ে বিখ্যাত জিনিস হলো মহিষের দুধের কাঁচা দই। শহর বা বাজারের যেকোনো মিষ্টির দোকানে এটি পাবেন।

টাটকা ইলিশ: তেঁতুলিয়া ও মেঘনার তাজা ইলিশ ভোলার হোটেলগুলোতে সবসময় পাওয়া যায়।

খাবার খরচ: শহরের 'হোটেল নূর' বা 'জামান রেস্টুরেন্ট'-এ ২০০-৩০০ টাকার মধ্যে ভরপেট ভালো মানের খাবার পাওয়া যাবে।


➣ থাকার ব্যবস্থা:

ভোলা শহরে থাকার জন্য বেশ কিছু উন্নত মানের হোটেল রয়েছে:

হোটেল প্যাপিয়ন: শহরের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন হোটেল।

হোটেল গোল্ডেন প্লাজা: এটিও বেশ জনপ্রিয়।

সরকারি সার্কিট হাউস: অনুমতি সাপেক্ষে থাকা যায়।

বাজেট হোটেল: সদর রোডে ৫০০-১০০০ টাকার মধ্যে অনেক সাধারণ হোটেল পাওয়া যায়।


➣ ভ্রমণের টিপস:

লঞ্চ ভ্রমণ: ভোলা ভ্রমণের আসল মজা হলো লঞ্চের ছাদে বসে রাতের আকাশ দেখা। তাই সম্ভব হলে লঞ্চে যাতায়াত করুন। 

নিরাপত্তা: ভোলা শহর বেশ শান্ত ও নিরাপদ। তবে নদীর পাড়ে বা তুলাতলীতে সন্ধ্যার পর বেশি একা না থাকাই ভালো। 

কেনাকাটা: ভোলার বিখ্যাত মহিষের দই বা রসমালাই সাথে করে বাড়িতে নিয়ে যেতে পারেন।

Blogger দ্বারা পরিচালিত.