Header Ads

ভিমরুলী পেয়ারা বাগান ভ্রমণের পূর্ণাঙ্গ গাইড ও যাতায়াত খরচ (২০২৬)

vimruli-peara-bagan
ছবি: ভাসমান পেয়ারা বাজার

বরিশালের ঝালকাঠি ও পিরোজপুর জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত ভিমরুলি ভাসমান পেয়ারা বাজার ও বাগান। একে বাংলাদেশের 'ভেনিস' বলা হয়। শত শত নৌকায় করে চাষিদের পেয়ারা বিক্রির এই দৃশ্যটি যেমন অনন্য, তেমনি ছোট ছোট খাল আর পেয়ারা বাগানের ভেতর দিয়ে নৌকা ভ্রমণ এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।


 পেয়ারা বাগান আসা-যাওয়া পথ ও ভাড়া:

ভাসমান এই হাটটি মূলত তিনটি স্পটে বেশি জমে—ভিমরুলি, আটঘর এবং কুড়িয়ানা। এর মধ্যে ঝালকাঠির 'ভিমরুলি' সবচেয়ে জনপ্রিয়।

ঢাকা থেকে: সদরঘাট থেকে লঞ্চে করে সরাসরি ঝালকাঠি বা বরিশাল যেতে পারেন।

লঞ্চ ভাড়া: ডেক ২০০-৩০০ টাকা, কেবিন ১০০০-২৫০০ টাকা।

বরিশাল বা ঝালকাঠি থেকে: বরিশাল নথুল্লাবাদ বা ঝালকাঠি থেকে মাহিন্দ্রা বা সিএনজি রিজার্ভ করে সরাসরি ভিমরুলি যাওয়া যায়।

মাহিন্দ্রা ভাড়া: আসা-যাওয়া ৬০০-৮০০ টাকা।

সরাসরি নৌকা: বরিশাল শহরের বানারীপাড়া হয়ে ট্রলারে করেও বাগানগুলোতে যাওয়া যায়।


 প্রধান আকর্ষণসমূহ:

ভাসমান হাট: খালের ওপর শত শত ছোট নৌকায় বোঝাই করা সবুজ পেয়ারা। দূর থেকে দেখলে মনে হয় খালের ওপর সবুজের মেলা বসেছে।

ভাসমান পেয়ারা বাজার
ছবি: ভাসমান পেয়ারা বাজার

বাগানের ভেতর ভ্রমণ: ছোট ছোট ডিঙি নৌকা নিয়ে পেয়ারা বাগানের সরু খালের ভেতর দিয়ে ঘুরে বেড়ানো যায়। দুই পাশে ঝুলে থাকা পেয়ারা আর মাথার ওপর সবুজের ছাউনি আপনাকে মুগ্ধ করবে।

কুড়িয়ানা অনুকূল ঠাকুরের আশ্রম: পেয়ারা বাগানের খুব কাছেই এই সুন্দর ও শান্ত মন্দিরটি অবস্থিত।

নৌকা বা ট্রলার ভ্রমণ: আপনি চাইলে বড় ট্রলার বা ছোট ডিঙি নৌকা ভাড়া করে পুরো এলাকার পেয়ারা বাগান আর লেবুর বাগান ঘুরে দেখতে পারেন।

নৌকা ভাড়া: প্রতি ঘণ্টা ৩০০-৫০০ টাকা (দরদাম সাপেক্ষ)।


➣ খাওয়া-দাওয়া ও খরচ:

কী খাবেন: কুড়িয়ানা বাজারে বেশ কিছু সাধারণ খাবারের হোটেল আছে। এখানে টাটকা মাছের ঝোল দিয়ে ভাত খাওয়ার মজাই আলাদা। এছাড়া পেট ভরে তাজা পেয়ারা তো আছেই!

বাজেট: যাতায়াত ও খাওয়া মিলিয়ে বরিশাল শহর থেকে একদিনের ট্রিপে জনপ্রতি ৫০০-৮০০ টাকা যথেষ্ট।


 ভ্রমণের সেরা সময় (খুবই জরুরি):

পেয়ারা বাগানের আসল সৌন্দর্য সারাবছর থাকে না।

সেরা সময়: জুলাই, আগস্ট এবং সেপ্টেম্বর। মূলত ভরা বর্ষাই হলো পেয়ারা কাটার মৌসুম। শীতকালে গেলে আপনি বাগান দেখতে পাবেন, কিন্তু ভাসমান হাটের সেই জমজমাট দৃশ্য পাবেন না।


 ভ্রমণের জরুরি টিপস:

তাড়াতাড়ি পৌঁছান: ভাসমান হাট খুব ভোরে শুরু হয় এবং দুপুরের আগেই শেষ হয়ে যায়। তাই সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে ভিমরুলি পৌঁছানোর চেষ্টা করুন। 

বৃষ্টির প্রস্তুতি: যেহেতু বর্ষাকালে যেতে হয়, তাই সাথে অবশ্যই ছাতা বা রেইনকোট রাখুন। 

পরিবেশ রক্ষা: খালের পানিতে চিপসের প্যাকেট বা পানির বোতল ফেলবেন না। 

অনুমতি: বাগানে ঢুকে পেয়ারা পাড়তে চাইলে অবশ্যই চাষির অনুমতি নেবেন।

Blogger দ্বারা পরিচালিত.