দুর্গাসাগর দীঘি বরিশাল ভ্রমণ গাইড ২০২৬: রাজকীয় স্মৃতির জলছায়া।
![]() |
| ছবি: দুর্গাসাগর দীঘি |
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত দুর্গাসাগর দীঘি দক্ষিণ বাংলার অন্যতম বৃহত্তম ও ঐতিহাসিক দীঘি। ১৭৮০ সালে চন্দ্রদ্বীপের তৎকালীন রাজা শিব নারায়ণ রায় তাঁর স্ত্রী দুর্গাবতীর স্মরণে এই বিশাল দীঘিটি খনন করেন। প্রায় ৪৫ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই দীঘিটি বর্তমানে একটি চমৎকার পর্যটন ও বনভোজন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
➣ দুর্গাসাগর আসা-যাওয়া পথ ও ভাড়া:
দুর্গাসাগর দীঘি বরিশাল-বানারীপাড়া সড়কের পাশে অবস্থিত, যা গুঠিয়া মসজিদ থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে।
বরিশাল শহর থেকে: নথুল্লাবাদ বাস স্ট্যান্ড থেকে বানারীপাড়াগামী বাসে বা মাহিন্দ্রায় করে সরাসরি দুর্গাসাগর নামা যায়।
বাস ভাড়া: ২০-৩০ টাকা।
মাহিন্দ্রা (রিজার্ভ): ৪৫০-৬০০ টাকা (গুঠিয়া মসজিদ ও দুর্গাসাগর একসাথে ঘোরার জন্য)।
গুঠিয়া মসজিদ থেকে: আপনি চাইলে গুঠিয়া মসজিদ দেখা শেষ করে ব্যাটারিচালিত রিকশা বা অটোতে করেও দুর্গাসাগর আসতে পারেন। (ভাড়া: ৩০-৫০ টাকা)।
➣ প্রধান আকর্ষণসমূহ:
বিশাল জলরাশি: দীঘিটি এতোটাই বড় যে একপাশ থেকে অন্যপাশ দেখা যায় না। এর চারপাশ সবুজে ঘেরা, যা মন শান্ত করে দেয়।
দীঘির মাঝখানের দ্বীপ: দুর্গাসাগরের ঠিক মাঝখানে একটি সুন্দর কৃত্রিম দ্বীপ রয়েছে। এটি দীঘির সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। একসময় এখানে অনেক নারকেল গাছ ছিল।
পাখির কলতান: শীতকালে এই দীঘিতে হাজার হাজার অতিথি পাখির সমাগম ঘটে। পাখিদের কিচিরমিচির শব্দে পুরো এলাকা মুখরিত থাকে।
মিনি চিড়িয়াখানা ও পার্ক: দীঘি সংলগ্ন এলাকায় একটি ছোট চিড়িয়াখানা আছে যেখানে হরিণসহ কিছু প্রাণী দেখা যায়। শিশুদের খেলার জন্য এখানে পার্কেও ব্যবস্থা আছে।
হাঁটার পথ: দীঘির চারপাশ দিয়ে প্রায় ২ কিলোমিটার দীর্ঘ হাঁটার পথ রয়েছে। যারা বিকেলে হাঁটতে পছন্দ করেন তাদের জন্য এটি দারুণ জায়গা।
➣ খাওয়া-দাওয়া ও প্রবেশ মূল্য:
প্রবেশ ফি: দুর্গাসাগর দীঘিতে প্রবেশের জন্য ২০-৩০ টাকার টিকেট কাটতে হয়।
কী খাবেন: দীঘির মূল গেটের আশেপাশে ছোট ছোট নাস্তার দোকান আছে। তবে ভালো খাবারের জন্য বরিশাল শহরে ফিরে আসাই ভালো। মনে রাখবেন, গুঠিয়া বা দুর্গাসাগর এলাকা ভ্রমণে এলে স্থানীয় 'গুঠিয়ার সন্দেশ' নিতে ভুলবেন না।
➣ কোন জায়গায় কী গাড়ি নিয়ে যাবেন:
ব্যক্তিগত গাড়ি বা বাইক: বরিশাল শহর থেকে সরাসরি দুর্গাসাগর পর্যন্ত পিচঢালা চমৎকার রাস্তা আছে। নিজের গাড়ি বা বাইক নিয়ে গেলে ভ্রমণের আনন্দ অনেক বেড়ে যাবে।
নৌকা: দীঘির ভেতরে ভ্রমণের জন্য ছোট নৌকা বা প্যাডেল বোট পাওয়া যায়। শান্ত পানিতে নৌকা ভ্রমণ আপনাকে এক চমৎকার অনুভূতি দেবে।
➣ ভ্রমণের সেরা সময় ও টিপস:
সেরা সময়: শীতকাল (নভেম্বর-ফেব্রুয়ারি) দুর্গাসাগর ভ্রমণের সেরা সময়। কারণ এই সময়ে অতিথি পাখি দেখা যায় এবং আবহাওয়া শীতল থাকে।
নিরাপদ ভ্রমণ: দীঘির পাড় অনেক বড় এবং নিরিবিলি, তাই পরিবারের সাথে গেলে সন্ধ্যার আগেই মূল গেটের কাছে ফিরে আসা ভালো।
সতর্কতা: দীঘির পানিতে নামার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করুন। সাতার না জানলে গভীর পানিতে যাবেন না।
পরিচ্ছন্নতা: দীঘির পাড়ে বা পানিতে প্লাস্টিক বা ময়লা ফেলবেন না।

