Header Ads

বিছনাকান্দি সিলেট ভ্রমণ গাইড ২০২৬: পাহাড় ও পাথরের মিতালি।

ছবি: বিছনাকান্দি
ছবি: বিছনাকান্দি

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবস্থিত বিছনাকান্দি বর্তমানে পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় একটি স্থান। পাথর, পাহাড় আর মেঘালয়ের ঝরনা থেকে আসা শীতল পানির মিতালি এখানে এক স্বর্গীয় পরিবেশ তৈরি করে। স্বচ্ছ পানির নিচে পাথরের বিছানা আর সামনেই আকাশছোঁয়া পাহাড় দেখে আপনার মনে হবে আপনি কোনো ছবির রাজ্যে আছেন।


 বিছনাকান্দি আসা-যাওয়া পথ ও ভাড়া:

বিছনাকান্দি সিলেট শহর থেকে প্রায় ৪০-৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

সিলেট শহর থেকে হাদারপাড়: প্রথমে আপনাকে সিলেট শহরের 'আম্বারখানা' পয়েন্ট থেকে সিএনজি বা লেগুনায় করে 'হাদারপাড়' বাজারে যেতে হবে।

সিএনজি (লোকাল): জনপ্রতি ১০০-১৫০ টাকা।

সিএনজি (রিজার্ভ): ৮০০-১০০০ টাকা (এক পথ)।

হাদারপাড় থেকে বিছনাকান্দি (নৌকা): হাদারপাড় বাজারে নেমে নৌকা ঘাট থেকে ট্রলার বা নৌকা ভাড়া করে বিছনাকান্দি যেতে হয়।

নৌকা ভাড়া: আসা-যাওয়া ১২০০-১৫০০ টাকা (এক নৌকায় ৮-১০ জন যাওয়া যায়)।


 সেখানে দেখার মতো আকর্ষণসমূহ:

পাথুরে নদী: বিছনাকান্দির মূল সৌন্দর্য হলো নদীর স্বচ্ছ পানি আর তার নিচে বিছানো হরেক রকমের পাথর।

মেঘালয়ের পাহাড় ও ঝরনা: ওপারেই ভারতের মেঘালয় পাহাড় এবং সেখান থেকে নেমে আসা বিশাল ঝরনাগুলো আপনার চোখের সামনেই থাকবে।

স্বচ্ছ শীতল পানি: এখানকার পানি এতটাই স্বচ্ছ যে নদীর তলার পাথরগুলো স্পষ্ট দেখা যায়। প্রচণ্ড গরমে এই শীতল পানিতে গোসল করা এক পরম তৃপ্তি।


 খাওয়া-দাওয়া ও খরচ:

বিছনাকান্দি বা হাদারপাড় বাজারে খাওয়ার জন্য সাধারণ মানের হোটেল পাওয়া যায়।

কী খাবেন: স্থানীয় দেশি মুরগি বা মাছ দিয়ে ভাত খেতে পারেন। তবে সিলেট শহরে ফিরে ডিনার বা লাঞ্চ করাই সবচেয়ে ভালো অপশন।

খরচ: জনপ্রতি ২০০-২৫০ টাকার মধ্যে লাঞ্চ হয়ে যাবে।

টিপস: সাথে অবশ্যই শুকনো খাবার এবং খাবার পানি রাখবেন, কারণ স্পট এলাকায় খাবারের দাম কিছুটা বেশি।


 কোন জায়গায় কী গাড়ি নিয়ে যাবেন ও ভাড়া:

সিলেট শহর থেকে হাদারপাড়: রাস্তা কিছুটা ভাঙাচোরা হতে পারে, তাই সিএনজি বা মাহিন্দ্রা এই পথের জন্য সবচেয়ে ভালো।

নৌকা ভ্রমণ: নৌকা ছাড়া বিছনাকান্দির মূল পয়েন্টে পৌঁছানো অসম্ভব। নৌকায় যাওয়ার সময় পিয়াইন নদীর দুই পাশের দৃশ্য আপনাকে মুগ্ধ করবে।


 ভ্রমণের সেরা সময় ও টিপস:

সেরা সময়: বিছনাকান্দি ভ্রমণের আসল সময় হলো বর্ষাকাল (জুন-সেপ্টেম্বর)। তখন পাহাড়গুলো সবুজ থাকে এবং ঝরনায় প্রচুর পানি থাকে। শীতকালে পানি খুব কমে যায় এবং পাথর তোলা হওয়ার কারণে সৌন্দর্য কিছুটা ম্লান হয়। 

পিচ্ছিল পাথর: নদীর ভেতর পাথরের ওপর হাঁটার সময় খুব সাবধান থাকবেন, কারণ পাথরগুলো অনেক পিচ্ছিল হয়। 

সীমান্ত সতর্কতা: এখানে ভারতের সীমান্ত খুব কাছাকাছি। তাই বিজিবি-র লাল নিশানা বা সীমানা অতিক্রম করবেন না। 

রোদ থেকে সুরক্ষা: নৌকায় রোদ থেকে বাঁচতে ছাতা বা হ্যাট সাথে রাখুন।


সিলেটের আরো ব্লগ পড়ুন: সাদা পাথর, জাফলং, হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজার

Blogger দ্বারা পরিচালিত.