ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর ভ্রমণ গাইড: বাংলার কাশ্মীর ভ্রমণের আদ্যোপান্ত।
![]() |
| ছবি: ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর |
সিলেটের কোম্পানিগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। একে অনেকে 'বাংলার কাশ্মীর' বলেও ডাকেন। ধলাই নদীর স্বচ্ছ নীল পানি, মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশ আর সাদা সাদা পাথরের ছড়াছড়ি—সব মিলিয়ে এই জায়গাটি এক অপূর্ব নৈসর্গিক রূপ ধারণ করে।
➣ সাদা পাথর আসা-যাওয়া পথ ও ভাড়া:
সাদা পাথর সিলেট শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। অন্য অনেক স্পটের তুলনায় এখানকার রাস্তা বেশ উন্নত।
সিলেট শহর থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাই-টেক পার্ক: সিলেট শহরের 'আম্বারখানা' পয়েন্ট থেকে সিএনজি বা বিআরটিসি বাসে করে কোম্পানিগঞ্জ বা ভোলাগঞ্জ জিরো পয়েন্টে যেতে হবে।
সিএনজি (লোকাল): জনপ্রতি ১৫০-২০০ টাকা।
বাস ভাড়া: ১০০-১৫০ টাকা।
ভোলাগঞ্জ ঘাট থেকে সাদা পাথর (নৌকা): হাই-টেক পার্কের কাছে নৌকা ঘাট থেকে ট্রলারে করে মূল স্পটে যেতে হয়।
নৌকা ভাড়া: আসা-যাওয়া ৮০০-১২০০ টাকা (পুরো নৌকা)। একটি নৌকায় ৮-১০ জন বসা যায়।
➣ সেখানে দেখার মতো আকর্ষণসমূহ:
ধলাই নদীর স্বচ্ছ পানি: সাদা পাথরের মূল আকর্ষণ হলো ধলাই নদীর বরফশীতল স্বচ্ছ নীল পানি। ওপর থেকে নদীর তলার পাথরগুলো স্পষ্ট দেখা যায়।
সাদা পাথরের রাজ্য: নদীর দুই তীরে এবং পানির নিচে অগুনতি সাদা পাথর বিছানো থাকে, যা রোদ পড়লে ঝিকমিক করে ওঠে।
![]() |
| ছবি: ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর |
ভারতের মেঘালয় পাহাড়: আপনার একদম সামনেই ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের বিশাল প্রাচীর দাঁড়িয়ে থাকতে দেখবেন, যেখান থেকে অসংখ্য ছোট-বড় ঝরনা নেমে আসে।
রোপওয়ে (রজ্জুপথ): ভোলাগঞ্জের পুরনো রোপওয়ে বা পাথর পরিবহনের তারের রাস্তাটি ইতিহাসের এক ভিন্ন আমেজ দেয়।
➣ খাওয়া-দাওয়া ও খরচ:
ঘাটের আশেপাশে এবং কোম্পানিগঞ্জ বাজারে খাওয়ার জন্য বেশ কিছু ভালো হোটেল আছে।
কী খাবেন: স্থানীয় হোটেলগুলোতে ভাত, দেশি মাছ এবং ভর্তা পাওয়া যায়। বিশেষ করে কোম্পানিগঞ্জ বাজারের হোটেলগুলোর খাবার বেশ সুস্বাদু।
খরচ: জনপ্রতি ১৮০-২৫০ টাকার মধ্যে তৃপ্তিভরে লাঞ্চ করা সম্ভব।
➣ কোন জায়গায় কী গাড়ি নিয়ে যাবেন ও ভাড়া:
সিলেট শহর থেকে কোম্পানিগঞ্জ: এই পথটি এখন বেশ প্রশস্ত এবং সুন্দর। আপনি কার, মাইক্রোবাস বা বাইক নিয়ে সরাসরি নৌকা ঘাট পর্যন্ত যেতে পারেন।
নৌকা ভ্রমণ: ঘাটে গিয়ে নৌকা ঠিক করার সময় অবশ্যই দরদাম করে নেবেন এবং ফেরার সময়ও ওই নৌকায় ফিরবেন কিনা তা নিশ্চিত করবেন।
➣ ভ্রমণের সেরা সময় ও টিপস:
সেরা সময়: সাদা পাথর ভ্রমণের আদর্শ সময় হলো জুন থেকে অক্টোবর (বর্ষাকাল ও শরতের শুরু)। তখন নদীতে পানির স্রোত বেশি থাকে এবং চারপাশ সজীব দেখায়। শীতকালেও যাওয়া যায়, তবে তখন পানি কিছুটা কমে আসে।
সাঁতার ও সতর্কতা: নদীর স্রোত অনেক সময় খুব বেশি থাকে, তাই গোসল করার সময় সাবধান থাকুন। লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ।
সীমানা মানুন: বিজিবি-র নির্দেশনা মেনে চলুন। ভারতের জিরো পয়েন্ট বা কাটাতার অতিক্রম করবেন না।
প্লাস্টিক বর্জন: সাদা পাথরের মতো সুন্দর জায়গায় দয়া করে পানির বোতল বা প্লাস্টিক ফেলে পরিবেশ নষ্ট করবেন না।
সিলেটের আরো ব্লগ পড়ুন: বিছনাকান্দি, জাফলং

