বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (BTRI) ভ্রমণ গাইড ২০২৬: চায়ের ইতিহাসের খোঁজে।
![]() |
| ছবি: বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (BTRI) |
শ্রীমঙ্গলের অন্যতম শান্ত এবং জ্ঞানগর্ভ পর্যটন কেন্দ্র হলো বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (BTRI)। ১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের চা শিল্পের উন্নয়ন এবং নতুন নতুন চায়ের জাত উদ্ভাবনে কাজ করে যাচ্ছে। পর্যটকদের কাছে এটি জনপ্রিয় হওয়ার প্রধান কারণ হলো এর সুশৃঙ্খল পরিবেশ, বিশাল চা বাগান এবং ঐতিহাসিক স্থাপত্য।
➣ BTRI আসা-যাওয়া পথ ও ভাড়া:
এটি শ্রীমঙ্গল শহর থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরে ভানুগাছ রোডে অবস্থিত।
শ্রীমঙ্গল শহর থেকে: শহর থেকে যেকোনো সিএনজি বা রিকশা নিয়ে খুব সহজে এখানে আসা যায়।
রিকশা ভাড়া: ৩০-৫০ টাকা।
সিএনজি ভাড়া: ২০-৩০ টাকা (লোকাল), ১০০-১৫০ টাকা (রিজার্ভ)।
প্রবেশের নিয়ম: এটি একটি সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, তাই ভেতরে প্রবেশের জন্য অনেক সময় গেটে অনুমতি নিতে হয়। সাধারণত অফিস চলাকালীন সময় পর্যটকদের ঢুকতে দেওয়া হয়।
➣ প্রধান আকর্ষণসমূহ:
চায়ের নার্সারি ও ক্লোন বাগান: এখানে বিভিন্ন জাতের চায়ের চারা এবং ক্লোন করা চা গাছ দেখা যায়। চায়ের যে কত রকম প্রজাতি হতে পারে, তা এখানে না এলে বোঝা কঠিন।
![]() |
| ছবি: চায়ের নার্সারি |
ভেষজ বাগান: চা গবেষণার পাশাপাশি এখানে একটি চমৎকার ভেষজ বাগান আছে, যেখানে বিরল অনেক ঔষধি গাছ দেখা যায়।
শতবর্ষী চা গাছ: এখানে অত্যন্ত পুরনো কিছু চা গাছ সংরক্ষিত আছে, যা আপনাকে চা চাষের ইতিহাসের কথা মনে করিয়ে দেবে।
পরিছন্ন পরিবেশ: পুরো ক্যাম্পাসে চমৎকার পিচঢালা রাস্তা, দুপাশে সারিবদ্ধ গাছ আর পাখির ডাক আপনাকে মুগ্ধ করবে। ফটোগ্রাফির জন্য এটি শ্রীমঙ্গলের অন্যতম সেরা জায়গা।

ছবি: বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট এর ভিতরের পরিবেশ
➣ খাওয়া-দাওয়া ও খরচ:
BTRI-এর ভেতরে কোনো বাণিজ্যিক রেস্টুরেন্ট নেই।
কী খাবেন: গেটের বাইরে ছোট দোকানগুলোতে চা ও হালকা নাস্তা পাওয়া যায়। তবে যেহেতু এটি শ্রীমঙ্গল শহরের খুব কাছে, তাই লাঞ্চ বা ডিনারের জন্য শ্রীমঙ্গল শহরে ফিরে আসাই বুদ্ধিমানের কাজ।
সাত রঙের চা: BTRI-এর খুব কাছেই অবস্থিত নীলকণ্ঠ টি কেবিন। সেখানে গিয়ে বিখ্যাত সাত রঙের চা বা বিভিন্ন ফ্লেভারের চা ট্রাই করতে পারেন।
খরচ: যাতায়াত ও নাস্তা মিলিয়ে জনপ্রতি ১০০-১৫০ টাকার মধ্যেই এই স্পটটি ঘুরে দেখা সম্ভব।
➣ কোন জায়গায় কী গাড়ি নিয়ে যাবেন:
শ্রীমঙ্গল শহর থেকে: আপনি নিজের গাড়ি, বাইক বা রিকশা নিয়েই সরাসরি BTRI ক্যাম্পাসের ভেতরে বা গেট পর্যন্ত যেতে পারেন। এখানকার রাস্তাগুলো খুব মসৃণ।
➣ ভ্রমণের সেরা সময় ও টিপস:
সেরা সময়: শীতকাল (নভেম্বর-ফেব্রুয়ারি) ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক। তবে বর্ষাকালে চা বাগানগুলো সজীব ও সবুজ দেখায়।
অফিস সময়: চেষ্টা করবেন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে যেতে। শুক্রবার বা সরকারি ছুটির দিনে ভেতরে ঢোকার আগে নিরাপত্তা কর্মীদের সাথে কথা বলে নিন।
গবেষণা কাজে বিঘ্ন না ঘটানো: মনে রাখবেন এটি একটি গবেষণা কেন্দ্র। তাই এখানকার কোনো গাছ বা পাতা অযথা ছিঁড়বেন না এবং হইচই করবেন না।
পারমিশন: আপনি যদি বড় কোনো গ্রুপ বা স্টুডেন্ট টিম নিয়ে যান, তবে আগে থেকে কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি নেওয়া ভালো।

