ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক ভ্রমণ গাইড ২০২৬: বন্যপ্রাণীর রোমাঞ্চকর জগত।
![]() |
| ছবি: ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক এর মেইন গেইট |
কক্সবাজার ভ্রমণে সমুদ্র সৈকতের পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর বৈচিত্র্য দেখতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই যেতে হবে চকরিয়া উপজেলায় অবস্থিত ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক। এটি বাংলাদেশের প্রথম সাফারি পার্ক। পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে ঘন অরণ্য আর উন্মুক্ত পরিবেশে বাঘ, সিংহ, জলহস্তী ও হরিণ দেখার অভিজ্ঞতা আপনার ভ্রমণে এক নতুন রোমাঞ্চ যোগ করবে।
➣ কক্সবাজার শহর থেকে সাফারি পার্ক: আসা-যাওয়া ও ভাড়া:
সাফারি পার্কটি কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঠিক পাশেই অবস্থিত। কক্সবাজার শহর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৪৬-৫০ কিলোমিটার।
বাস (সবচেয়ে সাশ্রয়ী): কক্সবাজার বাস টার্মিনাল বা কলাতলী থেকে চকরিয়া বা চট্টগ্রামগামী যেকোনো লোকাল বা ডাইরেক্ট বাসে উঠতে পারেন। হেলপারকে 'সাফারি পার্ক' বললে গেটের সামনে নামিয়ে দেবে।
ভাড়া: জনপ্রতি ৮০-১২০ টাকা।
সিএনজি (রিজার্ভ): যদি পরিবার নিয়ে আরামদায়কভাবে যেতে চান, তবে সিএনজি রিজার্ভ করতে পারেন। আসা-যাওয়া এবং সেখানে ৩-৪ ঘণ্টা অপেক্ষার জন্য ভাড়া লাগবে।
ভাড়া: ১,২০০-১,৫০০ টাকা।
চাঁন্দের গাড়ি বা মাইক্রোবাস: বড় গ্রুপ হলে জিপ বা মাইক্রোবাস রিজার্ভ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
ভাড়া: ৩,৫০০-৫,০০০ টাকা।
➣ সেখানে দেখার মতো আকর্ষণসমূহ:
পার্কের ভেতরে প্রবেশের পর (প্রবেশ ফি প্রাপ্তবয়স্ক ৫০ টাকা, শিশু ২০ টাকা) আপনি যা যা দেখতে পাবেন:
উন্মুক্ত বন্যপ্রাণী: এখানে বাঘ, সিংহ, ভাল্লুক এবং জলহস্তী বিশাল বেষ্টনীর ভেতর প্রায় মুক্ত অবস্থায় থাকে। এছাড়া হরিণের পালের অবাধ বিচরণ আপনার চোখে পড়বেই।
![]() |
| ছবি: পাখির খাচায় পাখিদের বিশ্রাম |
এলিফ্যান্ট রাইড ও হাতি শো: পার্কে প্রশিক্ষিত হাতি রয়েছে। চাইলে হাতির পিঠে চড়ে বন ঘুরে দেখতে পারেন অথবা হাতির ফুটবল খেলা ও কুর্নিশ করা উপভোগ করতে পারেন।
বার্ড শো ও অর্কিড হাউস: পার্কে রয়েছে হরেক প্রজাতির দেশি-বিদেশি পাখি। এছাড়া বিলুপ্তপ্রায় বিভিন্ন প্রজাতির অর্কিড দেখার জন্য আলাদা হাউস রয়েছে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ওয়াচ টাওয়ার: পার্কের ভেতরে কৃত্রিম লেক এবং উঁচুতে ওয়াচ টাওয়ার রয়েছে, যেখান থেকে পুরো বনের ওপরের অংশ এক নজরে দেখা যায়।
মিউজিয়াম ও ক্যাফেটেরিয়া: বন্যপ্রাণী সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে একটি তথ্যসমৃদ্ধ মিউজিয়ামও রয়েছে।
![]() |
| ছবি: বিশ্রামরত আবস্থায় বাঘ |
➣ খাওয়া-দাওয়া ও খরচ:
সাফারি পার্কের ভেতরে এবং গেটের আশেপাশে বেশ কিছু খাবারের ব্যবস্থা আছে।
কী খাবেন: গেটের বাইরে অনেকগুলো ভাতের হোটেল আছে যেখানে দেশি মুরগি, মাছ ও ভর্তা পাওয়া যায়। এছাড়া পার্কের ভেতর ছোট ক্যাফেটেরিয়া আছে যেখানে হালকা নাস্তা পাওয়া যাবে।
খাবার খরচ: * লাঞ্চ: ভাত, ডাল ও মাছ/মাংস দিয়ে পেটভরে খেলে খরচ হবে জনপ্রতি ১৮০-২৫০ টাকা।
নাস্তা: চা, বিস্কুট বা ডাব ৩০-৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে।
➣ কোন জায়গায় কী গাড়ি নিয়ে যাবেন ও ভাড়া
পার্কটি অনেক বড় (প্রায় ২,২৫২ একর), তাই পুরো এলাকা পায়ে হেঁটে দেখা কিছুটা কষ্টকর হতে পারে:
ভিতরে যাতায়াত: পার্কের ভেতরে যাতায়াতের জন্য পর্যটন গাইড বা ব্যাটারিচালিত খোলা জিপ গাড়ি পাওয়া যায়। নির্দিষ্ট ভাড়ার বিনিময়ে সেগুলো আপনাকে প্রধান স্পটগুলো ঘুরিয়ে দেখাবে।
বাসের জন্য সতর্কতা: ফিরতি পথে কক্সবাজার আসার জন্য হাইওয়ের গেটেই বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। সন্ধ্যার পর বাসের সংখ্যা কমে যায়, তাই চেষ্টা করবেন বিকেল ৫টার মধ্যে ফিরতি যাত্রা শুরু করতে।
➣ ভ্রমণের সেরা সময় ও টিপস:
সেরা সময়: শীতকাল বা হালকা মেঘলা দিনে সাফারি পার্ক ভ্রমণ সবচেয়ে আরামদায়ক। প্রচণ্ড রোদে বন্যপ্রাণীরা ছায়ায় লুকিয়ে থাকে, তাই সকালে বা বিকেলের দিকে ঘুরলে বেশি প্রাণী দেখার সম্ভাবনা থাকে।
নিরাপত্তা: বন্যপ্রাণীর বেষ্টনীর খুব কাছে যাবেন না এবং তাদের খাবার দেওয়ার চেষ্টা করবেন না।
পোশাক: প্রচুর হাঁটতে হবে, তাই আরামদায়ক কেডস বা জুতা এবং টুপি সাথে রাখুন।
ছুটি: সাধারণত সাফারি পার্ক প্রতিদিন খোলা থাকে, তবে ভ্রমণের আগে নিশ্চিত হয়ে নিন (সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত)।
ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক ভ্রমণ আপনার কক্সবাজার ট্যুরকে কেবল সমুদ্র দেখার গণ্ডি থেকে বের করে এক রোমাঞ্চকর অ্যাডভেঞ্চারে রূপান্তর করবে।


