Header Ads

ক্যাপ্টেন হিরাম কক্সের বাংলো ভ্রমণ গাইড ২০২৬: যাতায়াত ভাড়া ও ইতিহাস।

ক্যাপ্টেন হিরাম কক্সের বাংলো
ছবি: ক্যাপ্টেন হিরাম কক্সের বাংলো।

কক্সবাজার শহরটির নামকরণ যার নামে, সেই ক্যাপ্টেন হিরাম কক্সের স্মৃতিধন্য আসল জায়গাটি কিন্তু কক্সবাজার শহরে নয়, বরং রামুতে। ১৭৯৯ সালে এই ঐতিহাসিক বাংলোতেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন। আপনি যদি ইতিহাসের প্রতি আগ্রহী হন এবং কক্সবাজারের নামকরণের পেছনের কারিগরকে অনুভব করতে চান, তবে রামুর ক্যাপ্টেন হিরাম কক্সের বাংলো আপনার জন্য একটি অবশ্য দর্শনীয় স্থান।


➣ কক্সবাজার শহর থেকে রামুর বাংলো আসা-যাওয়া ও ভাড়া:

রামুর ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের অফিসের চর গ্রামে এই ঐতিহাসিক বাংলোটি অবস্থিত। কক্সবাজার শহর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ২৫ কিলোমিটার।

যাতায়াত মাধ্যম: কক্সবাজারের কলাতলী বা বাস টার্মিনাল থেকে আপনাকে প্রথমে রামু চৌমুহনী স্টেশনে আসতে হবে।

বাস ভাড়া: লোকাল বাসে জনপ্রতি ৪০-৬০ টাকা।

সিএনজি (লোকাল): জনপ্রতি ৬০-৮০ টাকা।

রামু চৌমুহনী থেকে বাংলো: চৌমুহনী স্টেশন থেকে ২ কিলোমিটার দক্ষিণে রামু-মরিচ্যা আরাকান সড়কের পশ্চিম পাশে এই বাংলোটি অবস্থিত।

টমটম/অটো ভাড়া: জনপ্রতি ১০-২০ টাকা। পুরো অটো রিজার্ভ করলে ৫০-৮০ টাকায় সরাসরি বাংলোর সামনে নামিয়ে দেবে।

সরাসরি রিজার্ভ (কক্সবাজার থেকে): যদি পরিবার নিয়ে সরাসরি যেতে চান, তবে সিএনজি রিজার্ভ করতে পারেন। আসা-যাওয়া এবং ১ ঘণ্টা অপেক্ষার জন্য ভাড়া ৮০০-১,০০০ টাকা পড়তে পারে।


 সেখানে দেখার মতো বিষয়সমূহ:

২২৫ বছরের পুরনো এই বাংলোটি বর্তমানে একটি হেরিটেজ সাইট হিসেবে পরিচিত। সেখানে যা যা দেখবেন:

ঐতিহাসিক টিনের বাংলো: ইট, কংক্রিট আর টিনের ছাউনি দিয়ে তৈরি এই বাংলোটি আপনাকে আঠারো শতকের স্থাপত্যের স্বাদ দেবে। এখানে বসেই ক্যাপ্টেন কক্স শরণার্থীদের পুনর্বাসনের কাজ পরিচালনা করতেন।

ক্যাপ্টেন কক্সের স্মৃতিচিহ্ন: বাংলোর ভেতরে পুরনো দিনের একটি খাট, চেয়ার ও টেবিল রয়েছে যা ক্যাপ্টেন কক্স ব্যবহার করতেন বলে ধারণা করা হয়।

প্রকৃতি ও নিস্তব্ধতা: সবুজে ঘেরা এই বাংলোর চারপাশ খুবই শান্ত। পুরনো গাছপালার ছায়ায় ঘেরা এই বাড়িটি ইতিহাসের এক নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

স্মৃতিফলক: সম্প্রতি বাংলোর সামনে হিরাম কক্সের জীবন ও অবদান নিয়ে স্মৃতিফলক স্থাপন করা হয়েছে, যা থেকে আপনি কক্সবাজারের নামকরণের বিস্তারিত ইতিহাস জানতে পারবেন।


 খাওয়া-দাওয়া ও খরচ:

বাংলোটি একটি আবাসিক এলাকার ভেতরে হওয়ায় সেখানে বড় রেস্টুরেন্ট নেই। খাবারের জন্য আপনাকে রামু চৌমুহনী বাজারে ফিরতে হবে।

কী খাবেন: রামুর ঐতিহ্যবাহী হালুয়া, পাহাড়ি কলা এবং স্থানীয় খাবারের হোটেলের ভর্তা-ভাত অত্যন্ত জনপ্রিয়।

খরচ: *দুপুরের খাবার: সাধারণ হোটেলে মাছ বা মাংস দিয়ে লাঞ্চ করলে জনপ্রতি ১৫০-২৫০ টাকা খরচ হবে।

হালকা নাস্তা: চা ও পাহাড়ি কলা ৩০-৫০ টাকার মধ্যে হয়ে যাবে।

রাতযাপন: আপনি যদি এখানে থাকতে চান, তবে জেলা পরিষদের অনুমতি সাপেক্ষে পর্যটকদের জন্য প্রতি রাত ৪০০ টাকা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ২০০ টাকায় থাকার ব্যবস্থা আছে।


➣  কোন জায়গায় কী গাড়ি নিয়ে যাবেন ও ভাড়া:

রামু চৌমুহনী থেকে বাংলো পর্যন্ত: এই ছোট দূরত্বের জন্য ব্যাটারিচালিত টমটম বা রিকশা সবচেয়ে ভালো। (ভাড়া ২০-৫০ টাকা)।

রামুর অন্যান্য স্পটসহ ভ্রমণ: আপনি যদি একই দিনে রামুর বৌদ্ধ বিহার এবং রাবার বাগানও ঘুরতে চান, তবে একটি সিএনজি ৫-৬ ঘণ্টার জন্য ৭০০-১,০০০ টাকায় রিজার্ভ করে নিতে পারেন। এটি আপনার সময় বাঁচাবে এবং আরামদায়ক হবে।


 ভ্রমণের সেরা সময় ও পরামর্শ:

সকাল বনাম বিকেল: রোদের তীব্রতা এড়াতে সকাল ১০টা অথবা বিকেল ৪টার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করুন। 

পরিবেশ: এটি একটি সরকারি রেস্ট হাউস এবং ঐতিহাসিক স্থান, তাই সেখানে অযথা শোরগোল করবেন না। 

ছবি তোলা: বাংলোর ভেতরে ছবি তোলার আগে দায়িত্বরত কেয়ারটেকারের অনুমতি নিয়ে নিন।

কক্সবাজারের সমুদ্র তো সবাই দেখে, কিন্তু আপনি যদি কক্সবাজারের শেকড়ের সন্ধান করতে চান, তবে রামুর এই হিরাম কক্সের বাংলো ভ্রমণ আপনার জন্য এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।

Blogger দ্বারা পরিচালিত.