হিমছড়ি ভ্রমণ গাইড ২০২৬: পাহাড় থেকে সমুদ্র দেখার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।
![]() |
| ছবি: হিমছড়ি ঝর্ণা |
➣ ক্সবাজার থেকে হিমছড়ি যাতায়াত ও ভাড়া:
কক্সবাজারের কলাতলী বা সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে হিমছড়ি মাত্র ১২-১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। যাতায়াত ব্যবস্থা অত্যন্ত সহজ:
ইজিরাইডার (টমটম): লোকাল টমটমে গেলে জনপ্রতি ভাড়া পড়বে ৪০-৫০ টাকা। পুরো টমটম রিজার্ভ নিলে আসা-যাওয়ার জন্য ৪০০-৫০০ টাকা লাগতে পারে।
সিএনজি: দ্রুত যেতে চাইলে সিএনজি নিতে পারেন। আসা-যাওয়া এবং সেখানে ১ ঘণ্টা অপেক্ষায় ৫০০-৬০০ টাকায় রিজার্ভ পাওয়া যায়।
চাঁন্দের গাড়ি (জিপ): বড় গ্রুপ হলে জিপ রিজার্ভ করা সেরা। ভাড়া পড়বে ১,৫০০-২,০০০ টাকা।
বাইক: মেরিন ড্রাইভ দিয়ে বাইক চালিয়ে হিমছড়ি যাওয়া সবচেয়ে রোমাঞ্চকর। বাইক ভাড়ায় নিলে তেলসহ ১,০০০-১,২০০ টাকা খরচ হতে পারে।
➣হিমছড়িতে দেখার মতো স্পটসমূহ:
হিমছড়িতে প্রবেশের জন্য সরকার নির্ধারিত এন্ট্রি ফি (২০-৩০ টাকা) দিতে হয়। ভেতরে মূলত দুইটি প্রধান আকর্ষণ রয়েছে:
* হিমছড়ি পাহাড় (Hill Top View): হিমছড়ির প্রধান আকর্ষণ হলো এর পাহাড়। পাহাড়ের চূড়ায় ওঠার জন্য মজবুত সিঁড়ি তৈরি করা আছে। প্রায় ২০০-র বেশি সিঁড়ি ভেঙে ওপরে উঠলে আপনি যা দেখবেন, তা এক কথায় অবিশ্বাস্য। দিগন্তজোড়া নীল সমুদ্র আর মেরিন ড্রাইভের আঁকাবাঁকা পথ ওপর থেকে দেখতে ছবির মতো লাগে।
* হিমছড়ি ঝরনা: পাহাড়ের পাদদেশেই রয়েছে একটি ছোট ঝরনা। শীতকালে পানি কম থাকলেও বর্ষা মৌসুমে এটি বেশ সজীব থাকে। পাথরের গা বেয়ে নেমে আসা পানি দেখার অভিজ্ঞতা বেশ শীতল।
➣খাওয়া-দাওয়া ও খরচ:
হিমছড়িতে খাওয়ার জন্য খুব বড় রেস্টুরেন্ট নেই, তবে গেটের বাইরে অনেক ছোট ছোট দোকান আছে।
কী খাবেন: এখানে ফ্রেশ ডাব এবং পাহাড়ি কলা খুবই জনপ্রিয়। ডাব পাওয়া যাবে ৫০-৭০ টাকায়।
লাঞ্চ: যদি দুপুরের খাবার খেতে চান, তবে পাহাড়ের ওপর ছোট ছোট টং দোকানে চা বা হালকা নাস্তা পাওয়া যায়। ভারী খাবারের জন্য কক্সবাজার শহরে ফিরে আসাই ভালো। তবে এখানে ঝালমুড়ি বা পাহাড়ি আমড়া মাখা ট্রাই করতে পারেন (২০-৫০ টাকা)।
➣ভ্রমণের সেরা সময় ও টিপস:
সেরা সময়: বিকেলের দিকে যাওয়া সবচেয়ে ভালো। ৩টা বা ৪টার দিকে পৌঁছালে রোদ কম থাকে এবং সূর্যাস্ত দেখার জন্য উপযুক্ত সময় পাওয়া যায়।
সতর্কতা: পাহাড়ের সিঁড়িগুলো বেশ খাড়া, তাই হার্ট বা হাঁপানির সমস্যা থাকলে ধীরে ধীরে উঠবেন। সাথে অবশ্যই পানির বোতল রাখবেন।
ছবি তোলা: পাহাড়ের ওপর ফটোশুটের জন্য চমৎকার সব জায়গা আছে, তবে রেলিংয়ের বাইরে যাওয়া বিপজ্জনক।
হিমছড়ি ভ্রমণ মানেই নীল সমুদ্রের বিশালতাকে পাহাড়ের চূড়া থেকে অনুভব করা। কক্সবাজার ভ্রমণের পূর্ণতা পেতে হিমছড়ি অবশ্যই আপনার তালিকায় রাখা উচিত।

