সীতাকুণ্ড সহস্রধারা-২ ঝর্ণা ভ্রমণ গাইড ২০২৬: অরণ্যের গহীনে এক বুনো সৌন্দর্য।
![]() |
ছবি: সহস্রধারা-২ ঝর্ণা |
সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ রিলেটেড ঝর্ণাগুলোর মধ্যে অন্যতম রোমাঞ্চকর এবং অফবিট একটি ঝরনা হলো সহস্রধারা-২। অনেকেই সীতাকুণ্ড ইকো পার্কের ভেতরের সহস্রধারা ঝর্ণাটিকে মূল সহস্রধারা মনে করেন, কিন্তু আসল বন্য সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে আপনাকে যেতে হবে এই সহস্রধারা-২ ঝর্ণায়। এটি মূলত সীতাকুণ্ডের সলিমপুর বা জঙ্গল সলিমপুর এলাকা দিয়ে যেতে হয়।
➣ সহস্রধারা-২ আসা-যাওয়া পথ ও ভাড়া:
এই ঝরনাটি সীতাকুণ্ডের সলিমপুর ইউনিয়ন এলাকায় অবস্থিত। চট্টগ্রাম শহর বা সীতাকুণ্ড বাজার দুই দিক থেকেই আসা যায়।
চট্টগ্রাম শহর থেকে: অলঙ্কার মোড় বা এ কে খান মোড় থেকে সীতাকুণ্ডগামী যেকোনো বাসে করে 'সলিমপুর' নামতে হবে।
বাস ভাড়া: ২০-৩০ টাকা।
সীতাকুণ্ড বাজার থেকে: সীতাকুণ্ড থেকে চট্টগ্রামমুখী ছোট ম্যাজিক গাড়ি বা বাসে করে সলিমপুর যেতে হবে
ভাড়া: ২০-৩০ টাকা।
সলিমপুর থেকে ঝরনার ট্রেইল মুখ: সলিমপুর নামার পর অটো বা সিএনজি নিয়ে জঙ্গল সলিমপুরের ভেতর দিয়ে পাহাড়ের পাদদেশ পর্যন্ত যেতে হবে।
সিএনজি ভাড়া: ১০০-১৫০ টাকা (রিজার্ভ)।
ট্রেকিং: গাড়ি থেকে নামার পর প্রায় ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা ঝিরিপথ ও পাহাড় দিয়ে হাঁটতে হবে।
➣ সেখানে দেখার মতো আকর্ষণসমূহ:
সহস্রধারা-২ কেন অন্য ঝরনা থেকে আলাদা?
বুনো পরিবেশ: এই ঝরনার ট্রেইলটি বেশ নির্জন এবং ঘন জঙ্গলে ঘেরা। পথে বড় বড় পাথর আর শীতল ঝিরিপথ আপনাকে মুগ্ধ করবে।
ঝর্ণার রূপ: সহস্রধারা-২ ঝর্ণাটি অনেক উঁচু থেকে কয়েক ধাপে নিচে পড়ে। বর্ষাকালে এর পানি পড়ার শব্দ দূর থেকে শোনা যায়।
শান্ত ও কোলাহলমুক্ত: এখানে পর্যটকদের ভিড় অনেক কম থাকে, তাই আপনি প্রকৃতির নির্জনতা খুব কাছ থেকে অনুভব করতে পারবেন।
➣ খাওয়া-দাওয়া ও খরচ:
এটি একটি দুর্গম এলাকা হওয়ায় ঝরনা বা পাহাড়ের ভেতর কোনো দোকান নেই।
কী খাবেন: দুপুরের খাবারের জন্য আপনাকে সলিমপুর বাজারে ফিরতে হবে অথবা সীতাকুণ্ড বাজারে যেতে হবে।
খাবার খরচ: সীতাকুণ্ড বা সলিমপুরের সাধারণ হোটেলগুলোতে ১৮০-২৫০ টাকার মধ্যে পেটভরে ভাত-মাছ-মাংস দিয়ে লাঞ্চ করা যায়।
সতর্কতা: পাহাড়ে ওঠার আগে সাথে অবশ্যই পর্যাপ্ত পানি, স্যালাইন এবং বিস্কুট বা কলা নিয়ে নেবেন।
➣ কোন জায়গায় কী গাড়ি নিয়ে যাবেন ও ভাড়া:
মূল রাস্তা থেকে জঙ্গল সলিমপুর: এই পথের জন্য সিএনজি বা অটো সবচেয়ে ভালো। রাস্তা কিছুটা পাহাড়ি হওয়ায় ছোট গাড়ি সুবিধাজনক।
পাহাড়ের ট্রেইলে: কোনো গাড়ি যাবে না, আপনাকে পায়ে হেঁটে যেতে হবে।
গাইড: যেহেতু পথটি একটু গোলমেলে এবং নির্জন, তাই স্থানীয় কোনো ছোট ছেলে বা অভিজ্ঞ কাউকে গাইড হিসেবে সাথে নেওয়া ভালো। তাকে ২০০-৩০০ টাকা দিলেই হবে।
➣ ভ্রমণের সেরা সময় ও টিপস:
সেরা সময়: জুন থেকে অক্টোবর (বর্ষা ও শরৎকাল) হলো এই ঝর্ণা দেখার সেরা সময়। শীতকালে পানি অনেক কমে যায়।
পিচ্ছিল পাথর: ঝিরিপথের পাথরগুলো অত্যন্ত পিচ্ছিল, তাই সাবধানে হাঁটবেন। ভালো গ্রিপের জুতা পরা মাস্ট।
নিরাপত্তা: নির্জন এলাকা হওয়ায় একা না গিয়ে অন্তত ৫-৬ জনের গ্রুপ নিয়ে যাওয়া নিরাপদ। বিকেলে অন্ধকার হওয়ার আগেই জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসুন।
জোঁক: বর্ষায় এই ট্রেইলে প্রচুর জোঁক থাকে, তাই সাথে লবণ বা সরিষার তেল রাখতে পারেন।

