Header Ads

মিরসরাই রুপসী ঝর্ণা ভ্রমণ গাইড ২০২৬: নয়দুয়ারিয়ার লুকানো স্বর্গ।

রুপসি ঝর্ণা
ছবি: রুপসী ঝর্ণা

সীতাকুণ্ডের মিরসরাই রেঞ্জে অবস্থিত ‍ঝর্ণাগুলোর মধ্যে অন্যতম দৃষ্টিনন্দন এবং জনপ্রিয় একটি ঝর্ণা হলো রুপসী ঝর্ণা। একে অনেকে নয়দুয়ারিয়া ঝর্ণা নামেও চেনে। এই ঝর্ণাটির বিশেষত্ব হলো এর শান্ত প্রকৃতি এবং অনন্য তিনটি ধাপ, যার প্রতিটিই সৌন্দর্যে একটি অন্যটিকে ছাড়িয়ে যায়। যারা খুব বেশি দুর্গম পথে না গিয়ে ঝরনার বুনো সৌন্দর্য দেখতে চান, তাদের জন্য রুপসী ঝর্ণা সেরা পছন্দ।


 রুপসী ঝর্ণা আসা-যাওয়া পথ ও ভাড়া:

রুপসী ঝর্ণা চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার নয়দুয়ারিয়া বাজার এলাকায় অবস্থিত। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের খুব কাছেই এর অবস্থান।

চট্টগ্রাম থেকে: অলঙ্কার মোড় বা এ কে খান থেকে সীতাকুণ্ড/মিরসরাইগামী বাসে উঠে 'নয়দুয়ারিয়া বাজারে' নামতে হবে।

ভাড়া: ৫০-৮০ টাকা।

ঢাকা থেকে: ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী যেকোনো বাসে উঠে সুপারভাইজারকে বললে তিনি নয়দুয়ারিয়া বাজারে নামিয়ে দেবেন।

ভাড়া: ৪৫০-৮০০ টাকা (বাসভেদে)।

বাজার থেকে ঝর্ণার মুখ: নয়দুয়ারিয়া বাজার থেকে রেললাইন পার হয়ে হেঁটে বা অটোরিকশায় করে ঝর্ণার ট্রেইল মুখ পর্যন্ত যাওয়া যায়।

অটো ভাড়া: জনপ্রতি ২০-৩০ টাকা।

ট্রেকিং: গাড়ি থেকে নামার পর ঝিরিপথ দিয়ে প্রায় ৩০-৪০ মিনিট হাঁটলেই দেখা মিলবে মূল ঝর্ণার।


 সেখানে দেখার মতো আকর্ষণসমূহ:

তিনটি ধাপ: রুপসী ঝর্ণার তিনটি প্রধান ধাপ আছে। প্রথম ধাপটি বেশ বড় এবং সুন্দর। ওপরের ধাপগুলোতে যেতে হলে পাহাড়ের গা বেয়ে উঠতে হয়, যা অ্যাডভেঞ্চার প্রিয়দের জন্য দারুণ।

শান্ত ঝিরিপথ: ঝর্ণায় যাওয়ার পুরো পথটি ছোট-বড় পাথর আর স্বচ্ছ পানির ঝিরিপথ দিয়ে। দুপাশে ঘন সবুজ পাহাড় আর পাখির ডাক আপনাকে মুগ্ধ করবে।

প্রাকৃতিক সুইমিং পুল: ঝর্ণার নিচে একটি বড় পানির কুণ্ড আছে যেখানে অনায়াসেই সাঁতার কাটা বা গোসল করা যায়।

বড় পাথর (Big Boulders): ট্রেইলের পথে বিশাল বিশাল কিছু পাথর রয়েছে যা ছবি তোলার জন্য চমৎকার ব্যাকগ্রাউন্ড তৈরি করে।


 খাওয়া-দাওয়া ও খরচ:

নয়দুয়ারিয়া বাজারে বা ঝর্ণার প্রবেশমুখে খাওয়ার জন্য ছোট ছোট দেশি হোটেল আছে।

কী খাবেন: স্থানীয় হোটেলগুলোতে ভাত, ডাল, ভর্তা এবং দেশি মুরগির প্যাকেজ পাওয়া যায়।

খাবার খরচ: জনপ্রতি ১৫০-২০০ টাকার মধ্যে দুপুরের খাবার হয়ে যাবে।

পরামর্শ: ঝর্ণার ট্রেইলে কোনো দোকান নেই, তাই নয়দুয়ারিয়া বাজার থেকেই পানি, শুকনো খাবার এবং গ্লুকোজ কিনে নিন।


➣ কোন জায়গায় কী গাড়ি নিয়ে যাবেন ও ভাড়া:

মহাসড়ক থেকে রেললাইন পর্যন্ত: এই পথের জন্য লেগুনা বা অটো পাওয়া যায়। (ভাড়া ১০-১৫ টাকা)।

রেললাইন থেকে পাহাড়ের পাদদেশ: রাস্তাটি কাঁচা ও সরু হওয়ায় এখানে পায়ে হাঁটা অথবা অটোরিকশা প্রধান ভরসা।

রুপসি ঝর্ণা
ছবি: ঝর্ণা যাওয়ার পথে রেলপথ

গাইড: রুপসী ঝর্ণার পথ মোটামুটি সহজ হলেও যদি আপনি ওপরের ধাপগুলোতে উঠতে চান, তবে একজন গাইড নেওয়া নিরাপদ। গাইডকে ৩০০-৫০০ টাকা সম্মানী দিলেই তারা আপনাকে সবগুলো ধাপ ঘুরিয়ে দেখাবে।


 ভ্রমণের সেরা সময় ও টিপস:

সেরা সময়: বর্ষাকাল (জুন-সেপ্টেম্বর) হলো রুপসী ঝর্ণার আসল রূপ দেখার সময়। শীতকালে ঝরনাটি প্রায় শুকিয়ে যায়। 

পিচ্ছিল পথ: ঝিরিপথের পাথরগুলো অত্যন্ত পিচ্ছিল এবং ধারালো হতে পারে। তাই প্লাস্টিক স্যান্ডেল বা গ্রিপ ভালো এমন জুতা পরুন। 

সতর্কতা: পাহাড়ের ওপরের ধাপে ওঠার সময় খুব সাবধান থাকবেন। বৃষ্টির সময় হুট করে পাহাড়ি ঢল আসতে পারে, তাই সতর্ক থাকুন। 

টিম নিয়ে যান: অন্তত ৪-৫ জনের একটি টিম নিয়ে গেলে ভ্রমণ নিরাপদ এবং আনন্দদায়ক হয়।

Blogger দ্বারা পরিচালিত.