Header Ads

পাহাড় থেকে সমুদ্র দর্শনের সেরা স্থান কক্সবাজার হিলটপ সার্কিট হাউস।

কক্সবাজার সার্কিট হাউস
ছবি: কক্সবাজার সার্কিট হাউস

কক্সবাজার ভ্রমণে এসে যারা একটু নিরিবিলি, রাজকীয় আভিজাত্য এবং পাহাড়ের ওপর থেকে সমুদ্রের প্যানোরামিক ভিউ পেতে চান, তাদের জন্য কক্সবাজার সার্কিট হাউস বা হিলটপ সার্কিট হাউস একটি অনবদ্য জায়গা। এটি কেবল একটি সরকারি গেস্ট হাউস নয়, বরং কক্সবাজারের অন্যতম সুন্দর এবং ঐতিহাসিক একটি ভিউ পয়েন্ট হিসেবেও পরিচিত।


 সার্কিট হাউস আসা-যাওয়া পথ ও ভাড়া:

কক্সবাজার সার্কিট হাউসটি শহরের কেন্দ্রস্থল 'কোর্ট বিল্ডিং' এলাকার পাশে একটি উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত।

যাতায়াত মাধ্যম: কক্সবাজারের যেকোনো পয়েন্ট (কলাতলী, সুগন্ধা বা লাবণী বিচ) থেকে আপনি খুব সহজে অটো বা টমটমে করে এখানে আসতে পারেন।

ইজিরাইডার বা টমটম ভাড়া: লোকাল টমটমে জনপ্রতি ২০-৩০ টাকা। পুরো টমটম রিজার্ভ করলে ৫০-৮০ টাকার মধ্যে পৌঁছে দেবে।

রিকশা: যারা ধীরেসুস্থে পাহাড়ের ঢালু পথ দেখে যেতে চান, তারা রিকশা নিতে পারেন। ভাড়া পড়বে ৪০-৬০ টাকা।

অবস্থান: এটি প্রধান সড়কের খুব কাছে হলেও পাহাড়ের ওপরে হওয়ার কারণে বেশ শান্ত।


 সেখানে দেখার মতো আকর্ষণসমূহ:

পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত এই স্থানটি পর্যটকদের কাছে কেন এতো প্রিয়, তা সেখানে না গেলে বোঝা যায় না:

হিলটপ ভিউ পয়েন্ট: সার্কিট হাউসের সামনের চত্বর থেকে পুরো কক্সবাজার শহর এবং বঙ্গোপসাগরের এক বিশাল অংশ এক নজরে দেখা যায়। নীল সমুদ্র আর শহরের আধুনিক দালানকোঠার মিতালি এখান থেকে সবচেয়ে সুন্দর লাগে।

ঐতিহাসিক স্থাপত্য: মূল ভবনটি ব্রিটিশ আমলের স্থাপত্যশৈলীর আদলে তৈরি। লাল রঙের ছাদ আর সুন্দর কারুকাজ করা বারান্দা আপনাকে পুরনো দিনের আভিজাত্যের কথা মনে করিয়ে দেবে।

সূর্যাস্তের দৃশ্য: যারা ভিড় এড়িয়ে সূর্যাস্ত দেখতে চান, তাদের জন্য এটি সেরা জায়গা। পাহাড়ের উঁচু থেকে সমুদ্রের বুকে সূর্যের ডুবে যাওয়া দেখা এক জাদুকরী অভিজ্ঞতা।

চারপাশের বাগান: সার্কিট হাউসের চারপাশ অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং ফল-ফুলের গাছে সাজানো। এখানকার পরিচ্ছন্ন ও নিরিবিলি পরিবেশ আপনার মন ভালো করে দেবে।


 খাওয়া-দাওয়া ও খরচ:

সার্কিট হাউস চত্বরে সাধারণ পর্যটকদের জন্য বড় কোনো রেস্টুরেন্ট নেই, তবে আশেপাশেই খাবারের ভালো ব্যবস্থা রয়েছে।

কী খাবেন: সার্কিট হাউস থেকে নিচে নামলেই আপনি আদালত পাড়া বা জেলা পরিষদ এলাকা পাবেন। সেখানে স্থানীয় অনেক ক্যাফে ও হোটেল আছে।

খাবার খরচ: হালকা নাস্তা ৩০-৫০ টাকার মধ্যে হয়ে যাবে। আর যদি দুপুরের খাবার খেতে চান, তবে ২০-৩০ টাকা টমটম ভাড়া দিয়ে মেইন রোডের 'পাউশ' বা 'ঝাউবন' রেস্টুরেন্টে গিয়ে সামুদ্রিক মাছ দিয়ে লাঞ্চ করতে পারেন। (খরচ জনপ্রতি ২০০-৩৫০ টাকা)।

ডাব: পাহাড়ের নিচে বা পাশে ডাব পাওয়া যায়, যার দাম ৬০-৭০ টাকা হতে পারে।


 কোন জায়গায় কী গাড়ি নিয়ে যাবেন ও ভাড়া:

যাতায়াত সহজ করতে নিচের পরামর্শটি লক্ষ্য করুন:

পাহাড়ের ওপর যাতায়াত: সার্কিট হাউসটি বেশ উঁচুতে, তাই হেঁটে ওঠার চেয়ে টমটম বা সিএনজি নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। বিশেষ করে বয়স্ক বা শিশুদের নিয়ে গেলে অবশ্যই গাড়ি রিজার্ভ করে সরাসরি গেটের সামনে নামবেন। (রিজার্ভ ভাড়া ১০০ টাকার কাছাকাছি)।

অন্যান্য স্পটের সাথে ভ্রমণ: আপনি যদি একই দিনে ক্যাপ্টেন হিরাম কক্সের বাসভবন এবং রাডার স্টেশন দেখতে চান, তবে একটি টমটম ১-২ ঘণ্টার জন্য ২০০-৩০০ টাকায় রিজার্ভ করে সবগুলো স্পট একসাথে ঘুরে নিতে পারেন।


 রাতযাপন ও অনুমতি (গুরুত্বপূর্ণ):

অনেকেই এই সুন্দর পাহাড়ের ওপর রাত কাটাতে চান। তবে মনে রাখবেন:

রাতযাপন: এটি একটি সরকারি গেস্ট হাউস, তাই এখানে রাত কাটানোর জন্য আপনাকে সরকারি কর্মকর্তা হতে হবে অথবা যথাযথ কর্তৃপক্ষের (জেলা প্রশাসক কার্যালয়) আগাম অনুমতি নিতে হবে। সাধারণ পর্যটকদের জন্য এখানে রুম ভাড়া পাওয়া বেশ কঠিন। 

পরিভ্রমণ: তবে সাধারণ পর্যটকরা সার্কিট হাউস চত্বর বা এর ভিউ পয়েন্টটি বিনা মূল্যে ঘুরে দেখতে পারেন এবং ছবি তুলতে পারেন। 

সতর্কতা: যেহেতু এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা, তাই সেখানে কোনো হইহুল্লোড় করবেন না এবং নির্ধারিত সীমানার বাইরে যাবেন না।

Blogger দ্বারা পরিচালিত.