গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত ভ্রমণ গাইড ২০২৬: সবুজ ঘাসের এক মায়াবী সৈকত।
![]() |
| ছবি: গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত |
সীতাকুণ্ডের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় এবং ভিন্নধর্মী সৈকত হলো গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত। একে স্থানীয়রা অনেকে 'মুরাদপুর সৈকত' নামেও চেনেন। এই সৈকতটি অন্যান্য সাধারণ সমুদ্র সৈকতের মতো বালুময় নয়, বরং এর বিশেষত্ব হলো সবুজ ঘাসের গালিচা এবং ছোট ছোট গর্ত বা নালা। একে দেখে আপনার মনে হবে এটি যেন কোনো বিদেশের সৈকত বা কোনো শিল্পীর আঁকা ছবি।
➣ গুলিয়াখালী সৈকত আসা-যাওয়া পথ ও ভাড়া:
গুলিয়াখালী সৈকত চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড বাজার থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত।
সীতাকুণ্ড বাজার থেকে সৈকত: সীতাকুণ্ড বাস স্ট্যান্ড বা বাজার থেকে আপনাকে সরাসরি সিএনজি নিয়ে সৈকতে যেতে হবে।
সিএনজি (লোকাল): জনপ্রতি ৩০-৪০ টাকা।
সিএনজি (রিজার্ভ): ১৫০-২০০ টাকা (এক পথ)।
যাতায়াত টিপস: আপনি যদি ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে আসেন, তবে সীতাকুণ্ড বাজারে নেমে খুব সহজেই সিএনজিতে করে ২০-৩০ মিনিটে সৈকতে পৌঁছাতে পারবেন।
➣ সেখানে দেখার মতো আকর্ষণসমূহ:
গুলিয়াখালী সৈকতের সৌন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ করবেই:
সবুজ ঘাসের গালিচা: সৈকতজুড়ে রয়েছে সবুজ ঘাসের মাঠ, যা জোয়ারের সময় পানিতে প্লাবিত হয়। এই ঘাসগুলোর মাঝখানে প্রাকৃতিকভাবেই তৈরি হয়েছে ছোট ছোট নালা বা গর্ত, যা দেখতে অনেকটা বিদেশের সাজানো বাগানের মতো।
![]() |
| ছবি: গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত |
কেঁওড়া বাগান: সৈকতের একপাশে রয়েছে ঘন সোয়াম্প ফরেস্ট বা ম্যানগ্রোভ বনের মতো সরু সরু শ্বাসমূলওয়ালা গাছ। এটি আপনার সুন্দরবন ভ্রমণের অনুভূতি দেবে।
জোয়ার-ভাটায় দ্বৈত রূপ: জোয়ারের সময় এই সবুজ নালাগুলো পানিতে ভরে ওঠে, তখন নৌকা নিয়ে এর ভেতর দিয়ে ঘুরে বেড়ানো যায়। আর ভাটার সময় সবুজ ঘাসের ওপর দিয়ে হেঁটে বেড়ানো যায়।
সাগর ও আকাশ: এখানে দাঁড়ালে আকাশের নীল আর সাগরের নীল মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। সূর্যাস্ত দেখার জন্য এটি সীতাকুণ্ডের সেরা জায়গা।
➣ খাওয়া-দাওয়া ও খরচ:
সৈকত এলাকায় খুব ভালো মানের রেস্টুরেন্ট নেই, তাই আগে থেকেই পরিকল্পনা রাখা ভালো।
কী খাবেন: সৈকতের প্রবেশমুখে কিছু অস্থায়ী দোকান আছে যেখানে ডাব, চা-বিস্কুট এবং ছোটখাটো নাস্তা পাওয়া যায়।
লাঞ্চ: দুপুরের খাবারের জন্য আপনাকে সীতাকুণ্ড বাজারে ফিরতে হবে। বাজারে 'সৌদিয়া', 'আপ্যায়ন' বা 'হোটেল আল-আমিন'-এ সামুদ্রিক মাছ দিয়ে পেটভরে লাঞ্চ করতে পারেন।
খরচ: যাতায়াত ও খাওয়া মিলিয়ে জনপ্রতি ৪০০-৫০০ টাকার মধ্যে সীতাকুণ্ড বাজার থেকে ঘুরে আসা সম্ভব।
➣ কোন জায়গায় কী গাড়ি নিয়ে যাবেন ও ভাড়া:
বাজার থেকে ড্যাম (বাঁধ) পর্যন্ত: এই পথের জন্য সিএনজি বা অটো সবচেয়ে ভালো। রাস্তা পিচঢালা হলেও শেষের দিকটা কিছুটা সরু। (ভাড়া ১০০-১৫০ টাকা রিজার্ভ)।
বোট রাইডিং: জোয়ারের সময় এলে ছোট ছোট নৌকা ভাড়া পাওয়া যায়। নৌকায় করে ম্যানগ্রোভ বনের ভেতর দিয়ে সাগরের কাছাকাছি যাওয়া যায়।
নৌকা ভাড়া: ৩০০-৫০০ টাকা (পুরো নৌকা, দরদাম করতে হবে)।
➣ ভ্রমণের সেরা সময় ও টিপস:
সেরা সময়: বর্ষার শেষের দিকে (আগস্ট-অক্টোবর) অথবা শরৎকালে এই সৈকতের ঘাস সবচেয়ে বেশি সবুজ থাকে। শীতকালে ঘাস কিছুটা শুকিয়ে বাদামী হয়ে যায়।
জোয়ার-ভাটা দেখে নিন: যাওয়ার আগে অনলাইনে বা স্থানীয়দের কাছে জোয়ার-ভাটার সময় জেনে নিন। জোয়ারের সময় গেলে ঘাসের গর্তগুলো পানিতে ভরা থাকে, যা দেখতে বেশি সুন্দর।
নিরাপত্তা: সৈকতের ঘাসের মাঠটি বেশ পিচ্ছিল হতে পারে, তাই হাঁটার সময় সাবধান থাকুন। কাদা থেকে বাঁচতে প্লাস্টিক স্যান্ডেল পরা ভালো।
সতর্কতা: একা না গিয়ে গ্রুপে যাওয়াই নিরাপদ। বিকেলের পর এলাকাটি বেশ নির্জন হয়ে যায়, তাই সন্ধ্যার আগেই বাজারে ফিরে আসা উচিত।

