বাঁশখালী ইকো-পার্ক ভ্রমণ গাইড ২০২৬: পাহাড়, লেক আর ঝুলন্ত সেতুর মায়া।
![]() |
| ছবি: বাঁশখালী ইকো-পার্ক |
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে অবস্থিত বাঁশখালী ইকো-পার্ক প্রকৃতির এক অনন্য স্বর্গরাজ্য। এখানে আছে উঁচু-নিচু পাহাড়, স্বচ্ছ পানির লেক এবং বাংলাদেশের অন্যতম দীর্ঘ ঝুলন্ত সেতু। যারা পাহাড় আর লেকের মায়াবী মিশেল একসাথে উপভোগ করতে চান, তাদের জন্য এটি একটি আদর্শ জায়গা।
➣ বাঁশখালী ইকো-পার্ক আসা-যাওয়া পথ ও ভাড়া:
এটি চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে বাঁশখালী উপজেলার শীলকূপ ইউনিয়নে অবস্থিত।
চট্টগ্রাম শহর থেকে: বহদ্দারহাট বা নতুন ব্রিজ থেকে বাঁশখালীগামী বাসে (এস আলম বা বাঁশখালী স্পেশাল) চড়ে 'বাঁশখালী সদর' বা 'জলদী' নামতে হবে।
বাস ভাড়া: ৮০-১২০ টাকা।
সদর থেকে ইকো-পার্ক: জলদী মোড় থেকে সিএনজি বা অটো নিয়ে সরাসরি ইকো-পার্কের মেইন গেটে যাওয়া যায়।
সিএনজি ভাড়া: জনপ্রতি ৩০-৪০ টাকা (রিজার্ভ করলে ১৫০-২০০ টাকা)।
এন্ট্রি ফি: পার্কে প্রবেশের জন্য জনপ্রতি ৩০-৫০ টাকার টিকেট কাটতে হয়।
➣ প্রধান আকর্ষণসমূহ:
বাঁশখালী ইকো-পার্কে যা যা আপনার নজর কাড়বে:
দীর্ঘ ঝুলন্ত সেতু: এই পার্কের মূল আকর্ষণ হলো লেকের ওপর দিয়ে তৈরি বিশাল ঝুলন্ত ব্রিজ। এটি রাঙামাটির ঝুলন্ত ব্রিজের কথা মনে করিয়ে দেবে। এখান থেকে লেকের দৃশ্য অপূর্ব লাগে।
![]() |
| ছবি: বাঁশখালী ইকো-পার্ক |
বড় লেক: পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে চলা বিশাল লেকটি পার্কের সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। লেকের স্বচ্ছ নীল পানি আপনাকে মুগ্ধ করবে।
পাহাড় ও জঙ্গল: পার্কটি হাজার হাজার একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। এখানে অনেক উঁচুতে ভিউ টাওয়ার আছে যেখান থেকে দাঁড়ালে দূরে বঙ্গোপসাগরও দেখা যায়।
বিচিত্র উদ্ভিদ ও বন্যপ্রাণী: এখানে কয়েকশ প্রজাতির গাছপালা এবং বিভিন্ন ধরণের পাখপাখালি দেখা যায়। মাঝে মাঝে হরিণ বা বানরের দেখাও মিলতে পারে।
➣ খাওয়া-দাওয়া ও খরচ:
ইকো-পার্কের ভেতরে ছোটখাটো নাস্তার দোকান আছে, তবে ভালো খাবারের জন্য আপনাকে একটু বাইরে নজর দিতে হবে।
কী খাবেন: চা, বিস্কুট, পানি ও চিপস পার্কের ভেতরের দোকানেই পাবেন।
লাঞ্চ: দুপুরের খাবারের জন্য আপনাকে বাঁশখালী সদর বা জলদী বাজারে ফিরতে হবে। সেখানে দেশি মাছ-মাংস দিয়ে ভালো মানের লাঞ্চ করা যাবে।
খরচ: খাবার বাবদ জনপ্রতি ২০০-২৫০ টাকা যথেষ্ট।
➣ কোন জায়গায় কী গাড়ি নিয়ে যাবেন ও ভাড়া:
ইকো-পার্কের ভেতরে: পার্কের ভেতরটা অনেক বিশাল। পাহাড়ি উঁচু-নিচু রাস্তায় আপনাকে মূলত পায়ে হেঁটেই ঘুরতে হবে।
বোট রাইডিং: লেকের সৌন্দর্য কাছ থেকে দেখতে চাইলে স্পিডবোট বা নৌকা ভাড়া নিতে পারেন।
বোট ভাড়া: সময় ও দূরত্ব অনুযায়ী ২০০-৫০০ টাকা (দরদাম করে নেওয়া ভালো)।
➣ ভ্রমণের সেরা সময় ও টিপস:
সেরা সময়: শীতকাল (নভেম্বর-ফেব্রুয়ারি) ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে ভালো। তবে বর্ষায় লেক যখন পানিতে টইটুম্বুর থাকে, তখন এর সৌন্দর্য আরও বেড়ে যায়।
নিরাপত্তা: পার্কটি বেশ বড় এবং নির্জন, তাই একা খুব গহীনে না যাওয়াই ভালো। সবসময় গ্রুপের সাথে থাকুন।
জুতা: যেহেতু প্রচুর হাঁটতে হবে এবং পাহাড়ে উঠতে হবে, তাই আরামদায়ক কেডস বা গ্রিপের জুতা পরুন।
সতর্কতা: ঝুলন্ত সেতুতে অতিরিক্ত ভিড় বা লাফালাফি করবেন না। ব্রিজের একপাশে খুব বেশি মানুষ একসাথে না ওঠাই নিরাপদ।

